
গাজী আঃ আলীম,নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশে ফেরার কথা ছিল প্রবাসী বাচ্চু মিয়ার।পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে ফেরার প্রস্তুতিও হয়তো নিচ্ছিলেন মনে মনে।কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বলি হয়ে সব স্বপ্ন নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদেশের মাটিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। বাড়িতে এখন বইছে শোকের মাতম।
শোকসন্তপ্ত এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ভিপি নুরুল হক নূর।আজ তিনি নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন,"বাচ্চু মিয়ার এই অকাল মৃত্যু শুধু তার পরিবারের জন্য নয়,বরং দেশের জন্যও এক বড় ক্ষতি।প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আমাদের অর্থনীতির প্রাণ।"তিনি সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সর্বাত্মক আইনি ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান:মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।পরিবারের অন্য সদস্যদের কর্মসংস্থান বা সহায়তার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সাথে দেখছে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিশেষ শোক বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি বলেন,"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনায় অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আমাকে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পাঠিয়েছেন।এই কঠিন সময়ে আপনারা একা নন।" রিয়াদের সেই ভয়াবহ রাত,গত রোববার ইফতারের আগে সৌদি আরবের রিয়াদের আল-খারিজ শহরের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।সেই ক্ষেপণাস্ত্রটি ঘাঁটির কাছের একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছাউনিতে আঘাত হানলে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাচ্চু মিয়া(৩৫)এবং টাঙ্গাইলের সখীপুরের মোশাররফ হোসেন(৪০)নিহত হন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার ও স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, বাচ্চু মিয়া ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং প্রবাসেও স্থানীয় জামায়াত শাখার কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার স্ত্রী ও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।অন্যদিকে,মোশাররফ হোসেন আট বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি গিয়েছিলেন।তার দুই ছেলে মাহিম ও মিহান স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে।শোকে পাথর দুই পরিবার,বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে এখন কেবলই শূন্যতা।প্রতিবেশীরা জানান,তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও অমায়িক মানুষ।পুরো গ্রাম তার ফেরার অপেক্ষায় ছিল,কিন্তু এখন ফিরছে তার নিথর দেহ।অন্যদিকে মোশাররফ হোসেনের বাবা সূর্যত আলী আহাজারি করে বলেন,"আট বছরে কেবল বিদেশযাত্রার ঋণ শোধ হয়েছে,সচ্ছলতা আর ফিরল না।"মোশাররফের স্ত্রী জানান,রোববার ইফতারের পর শেষ কথা হয়েছিল।ঈদে ছেলেদের পোশাক কেনার টাকা পাঠানোর কথা ছিল তার,কিন্তু রাত ৩টায় আসে মৃত্যুর সংবাদ।কটিয়াদীর ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ এবং সখীপুরের ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রনী জানিয়েছেন,মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে লাশের মিছিল ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার জেরে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।বাচ্চু মিয়া ও মোশাররফ হোসেন:সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত।
আহমদ আলী সালেহ(৫৫):১মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত।তার মরদেহ ইতিমধ্যে দেশে এনে দাফন করা হয়েছে।
মহসিন তারেক(৪৮):২মার্চ বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জাহাজে পড়ে নিহত।
জাহেদ হোসেন(৩৮):৫মার্চ কুয়েতে মরুভূমিতে অজ্ঞাত বিস্ফোরণে নিহত।
সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।