
পথিক কবি, নিজস্ব প্রতিবেদক |
বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলা উন্নয়নের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা থেকে এখনো অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চল যখন উন্নয়নের সোপানে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন মোড়েলগঞ্জের মানুষকে প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে নানামুখী সমস্যার। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রকট হয়ে উঠেছে পানগুছি নদী পারাপারের দুর্ভোগ এবং ফেরিঘাটের চরম বেহাল অবস্থা।
পানগুছি নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে একপাশে ১০টি এবং অন্যপাশে ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দুই পাড়ের মানুষের নিয়মিত নদী পারাপার অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই পারাপারের একমাত্র ভরসা পুরোনো দুটি ফেরির একটি অচল হয়ে পড়ে আছে, অন্যটি কোনো রকমে চলাচল করছে। চলমান ফেরিটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।
ফেরিঘাটের উভয় পাড়ের প্লাটফর্মও অত্যন্ত নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেকোনো মুহূর্তে যাত্রীবাহী যানবাহন কিংবা ভারী পরিবহন দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী, শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ফেরিঘাট ব্যবহার করছেন।
এদিকে ভরা কটালের সময় জোয়ারের পানিতে দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং মোড়েলগঞ্জের মূল বাজার পর্যন্ত প্লাবিত হয়। একপাশে নামমাত্র ভেড়িবাঁধ এবং অন্যপাশে আংশিক পাইলিং থাকলেও তা জোয়ারের পানির প্রবল চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা জানান, সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, আমিরুল আলম মিলন, এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগসহ একাধিক জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন সময়ে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমও এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পানগুছি নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, মোড়েলগঞ্জের উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত পানগুছি নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।