কলিজার টুকরোকে বিদায় দেওয়ার আকুতি
মেয়ের বিয়ের পর তাকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া যে কতখানি কষ্টের, তা কেবল একজন ভুক্তভোগী বাবা-মা-ই জানেন। এই বিদায় যেন এক পাহাড় সমান কষ্টের ভার, যা বুকের ভেতরটা নিশব্দে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।
যে মেয়েটিকে জন্মের পর থেকে বুক দিয়ে আগলে রাখা হলো, যার প্রতিটি কান্না আর হাসির সাথে বাবা-মায়ের নিঃশ্বাস জড়িয়ে থাকত, একদিন হঠাৎ করেই সে হয়ে যায় অন্য বাড়ির কেউ। বিয়ের সানাইয়ের সুর যখন থেমে যায়, আর মেয়ে যখন চিরতরে চেনা উঠোনটা ছেড়ে চলে যায়, তখন মনে হয় বুক থেকে কলিজার একটা অংশ ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘরটা হঠাৎ করেই কেমন যেন খাঁ খাঁ করে ওঠে। আলমারিতে পড়ে থাকা তার দু-একটা জামা, পড়ার টেবিল, কিংবা ড্রেসিং টেবিলের আয়নাটার দিকে তাকালে চোখের জল ধরে রাখা যায় না। মনে প্রশ্ন জাগে—আমার আদরের মেয়েটি নতুন পরিবেশে ঠিকঠাক আছে তো? কেউ তাকে বকা দিল না তো? ঠিকমতো খেয়েছে তো?
কন্যা সন্তান ঘরের লক্ষ্মী, বাবা-মায়ের জান্নাতের উসিলা। তারা যত দিন ঘরে থাকে, ঘরটা আলোয় আলোকময় হয়ে থাকে। অথচ একসময় তাদের চলে যেতে হয় এই নিষ্ঠুর নিয়মে।
আসুন, আমাদের ঘরের কন্যা সন্তানদের অবহেলা না করে তাদের মন উজাড় করে ভালোবাসি, সর্বোচ্চ যত্ন করি। কারণ এই পাখিরা খুব বেশি দিনের জন্য আমাদের নীড়ে আসে না। আর যেসব বাবা-মা তাঁদের কলিজার টুকরোকে বিদায় দিয়েছেন, তাঁদের এই পাহাড় সমান কষ্টকে সম্মান জানাই। আল্লাহ সব মেয়ের সংসার জীবন সুখী ও নিরাপদ করুন। আমীন।