ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান,নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে উপকূলীয় উপজেলা কয়রা ও পাইকগাছা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।পুলিশ বিভাগের ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে,এ আসনের ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৯টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে,যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৮৩ শতাংশ।
গত অক্টোবর মাসে খুলনা জেলা পুলিশ ও খুলনা মহানগর পুলিশ পৃথকভাবে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মোট ৮৪০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে এ ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেলার মোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৬৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ,যার হার প্রায় ৬৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
ঝুঁকির দিক থেকে খুলনা-৬ আসনের অবস্থান শীর্ষে থাকলেও সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনা মহানগরের ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং আড়ংঘাটা ও যোগীপোলের একাংশ নিয়ে গঠিত খুলনা-৩ আসন।এ আসনের মাত্র ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অপরাধ)মো. আনিসুজ্জামান জানান,ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি নির্ধারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা,দুর্গমতা,পূর্ববর্তী সহিংসতার ইতিহাস, আশপাশে প্রভাবশালী ব্যক্তির অবস্থান,সীমানা প্রাচীরের অবস্থা এবং অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস আগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করেন।
পুলিশ প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়,খুলনা-১ আসনের ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি,খুলনা-২ আসনের ১৫৭টির মধ্যে ১০৫টি,খুলনা-৩ আসনের ১৫৫টির মধ্যে ৭৭টি, খুলনা-৪ আসনের ১৪৪টির মধ্যে ৯৫টি এবং খুলনা-৫ আসনের ১৫০টির মধ্যে ৮৩টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
খুলনা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন,“একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। প্রচার কার্যক্রম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
অন্যদিকে,খুলনা-৬ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন,“বিগত সময়ের মতো স্বৈরাচারী নির্বাচন আর হতে দেওয়া হবে না।কেউ যদি ভোটকেন্দ্র দখল বা ভোট চুরির চেষ্টা করে,তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা শক্তভাবে প্রতিহত করা হবে,ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন,“ভোট একটি পবিত্র আমানত।যে এই আমানত রক্ষা করতে পারবে,তাকেই ভোট দেওয়া উচিত। ন্যায়,ইনসাফ ও জনকল্যাণভিত্তিক সমাজ গঠনে ইসলামী নেতৃত্বকে সংসদে পাঠাতে হবে।”
জামায়াতে ইসলামীর খুলনা-৬ আসনের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন,“প্রতিপক্ষের প্রার্থী অপপ্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।তবে এ এলাকার ভোটাররা অত্যন্ত সচেতন।তারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে কুরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, ইনশাআল্লাহ।”
এ বিষয়ে খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান,নগরী থেকে সবচেয়ে দূরের উপজেলা কয়রা এবং এরপর পাইকগাছা হওয়ায় অনেক ভোটকেন্দ্র দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।এ কারণেই অধিকাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।তিনি বলেন, “পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিজিবি,কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী এবং পৌর এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।”
খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন,“এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।কেন্দ্রগুলোতে ক্যামেরা এবং পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযোজন করা হচ্ছে।”
তিনি জানান,ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ পুলিশ সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বডি ক্যামেরার ট্রায়াল চলছে।“ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই,”—বলেন তিনি।