ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর নিউমার্কেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের উত্তর গেটে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা জরুরি এবং জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোটে সরকার গঠন বৈধ হলেও, একই জনগণের ভোটে সংস্কারকে অবৈধ বলা দ্বিচারিতা—যা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।” তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করে জাতিকে অপমান করা হয়েছে। সরকার জনস্বার্থবিরোধী অবস্থানে গেলে রাজপথ ও সংসদ—সবখানেই প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর ও ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপি খুলনা মহানগরীর সংগঠক মো. শামসুল আরেফিন, খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি মুফতি ইব্রাহিম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহানগর সভাপতি এডভোকেট হানিফ উদ্দীন, খেলাফত মজলিসের এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন, খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, জুলাই যোদ্ধা মো. হুযাইফা প্রমুখ।
বক্তারা গণভোটের পক্ষে এবং সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’-এর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ভোটের আনুপাতিক হারে (পিআর সিস্টেমে) উচ্চ কক্ষ গঠন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ, মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, যার দায় সরকার এড়াতে পারে না।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’সহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। নেতাকর্মীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।