গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানায় এক গৃহিণী অভিযোগ করেছেন, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর নামে ৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, চুক্তির পর ছেলে মোঃ শাকিলকে কোনো কাজ না দিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে।অভিযোগকারী মোছাঃ রুনা আক্তার (৪২)। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর গ্রামের বাসিন্দা। তার ছেলে মোঃ শাকিল (২২)।রুনা আক্তারের অভিযোগে বলা হয়, বিবাদী মোঃ জাহিদুল (৩৫) ও তার স্ত্রী বিথী আক্তার (২৭) তার ছেলেকে সৌদি আরবে লেভার (শ্রমিক) হিসেবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে (পাঁচ লাখ টাকা) নেন। চুক্তি অনুসারে ৯ মাস আগে ছেলেকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর থেকে কোনো কাজ না দিয়ে তাকে একটি ঘরের ভিতর আটকে রাখা হয়। ছেলে মোবাইল ফোনে মাকে এই ঘটনা জানালে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।গত ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে রুনা আক্তার বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্ত জাইদুল গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নের মো : আবুল এর ছেলে । এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রুনা আক্তার চার (৪) জনকে আসামি করে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আসামিরা হলেন ১। বিথী আক্তার স্বামী জাইদুল ২। জাহিদুল পিতা মোঃ আবুল ৩। মোহাম্মদ আয়নাল সরকার পিতা অজ্ঞাত ৪। মোসাম্মৎ মুনি আক্তার স্বামী মোঃ আয়নাল। রুনা আক্তার আরও বলেন, “বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আমার ছেলেকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। এলাকার অনেকেই এই ঘটনা জানেন।” তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।প্রতারণার শিকার পরিবারের দাবি:অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা জানান, পুরো টাকা দিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠানো হয়েছিল সংসারের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায়। কিন্তু এখন ছেলের কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে আটকে রাখার খবরে পরিবারে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।এ ধরনের প্রবাসীপ্রতারণার ঘটনা গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মধ্যেই ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধারণ মানুষের দাবি—এসব অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।ওকে ঘটনার সাক্ষীরা হলেন ১। মোঃ ইমরান খোরাদি পিতা মৃত আলাউদ্দিন ২। মোঃ মুক্তাজুল খান পিতা মৃত আব্দুর রহমান ৩। মোছাম্মদ জোসনা বেগম স্বামী মৃত্যুর লোকমান হোসেন ৪। মোহাম্মদ সেলিম হোসেন পিতা মৃত লোকমান হোসেন। ঘটনায় সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বারবার চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।