
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জে কিস্তির টাকা আত্মসাৎ ও হিসাব জালিয়াতির অভিযোগে ‘প্রশিখা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’-এর ফিল্ড অফিসার অঞ্জলি চৌধুরীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) গোপালগঞ্জ জেলা আদালত সিআর ১০১২/২০২৩ নম্বর মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্তে উঠে এসেছে, অঞ্জলি চৌধুরী সাধারণ ও নিরক্ষর গ্রাহকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ঋণের কিস্তির টাকা কোম্পানির কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করে আসছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচুড়িয়া এলাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. ফয়জুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আইরিন খানম প্রশিখা থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। তাঁরা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ের পাসবই এবং অফিসের কম্পিউটার লেজারের মধ্যে টাকার গড়মিল ধরা পড়ে। সিআইডির তদন্তে দেখা যায়, গ্রাহকের জমা দেওয়া কিস্তির একটি বড় অংশ অফিসের অফিসিয়াল হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করে সরাসরি আত্মসাৎ করেছেন অঞ্জলি চৌধুরী।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরোনো ও নতুন পাসবই তুলনা করে কিস্তির তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ) ও ৪২০ (প্রতারণা) ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পায় সিআইডি। এ ছাড়া তদন্তে আরও জানা গেছে, অঞ্জলি চৌধুরী এর আগেও বিভিন্ন নিরক্ষর গ্রাহকের টাকা বইতে এন্ট্রি না করে আত্মসাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় প্রশিখা কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আদেশের ফলে ভবিষ্যতে এনজিও খাতের অসাধু কর্মকর্তাদের জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছাবে।