চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে ফের বেপরোয়া বালু খেকোরা
নদীভাঙনের কবলে লক্ষ্যারচর–কৈয়ারবিল সড়
মোঃ আবদুল করিম জাতীয় পএিক একুশে প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ার প্রাণপ্রবাহ মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালু খেকো চক্র। নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০টি স্পটে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দিন-রাত নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে লক্ষ্যারচর–কৈয়ারবিল সড়ক, যেখানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
শনিবার (১৭জুলাই) বালু খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুতালেব চৌধুরী বলেন- মাতামুহুরী নদীর বন্যার পানি কমার সাথে সাথে স্থানীয় একটি বালু খেকো সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ড্রেজার ও শ্যালো মেসিন বসিয়ে বিরামহীনভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে।
নদীর তলদেশ থেকে গভীরভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় ধসে যাচ্ছে। চলতি বর্ষাকালে এ ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করতে পারে।
স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার বেবী আকতার অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি, কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক এবং জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
বিশেষ করে লক্ষ্যারচর–কৈয়ারবিল সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসাসহ শতাধিত বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন- অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে শুধু নদীভাঙনই নয়, নদীর জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। নদীর তলদেশে গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বানববন্ধনে বর্তমান সরকারদলীয় স্থানীয় নের্তৃবৃন্দসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভুমি) রুপায়ন দেব বলেন- বালু খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালু খেকোদের ফের দৌরাত্ম্য নিয়ে
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেরোয়ারের নজরে আনা হলে তিনি বলেন- বালু খেকো যেই হোক না দ্রুত অভিযানের ব্যবস্থা করা হবে।
ছবি:- লক্ষ্যারচর-কৈয়ারবিল সড়কে বালু খোকেদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন।