
মোঃ শাহাবুদ্দিন নিজস্ব সংবাদদাতা :
সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়ন ভূমি অফিস। দীর্ঘদিন ধরে এই জলযট ও জলাবদ্ধতার সমস্যা চললেও কর্তৃপক্ষ এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে একদিকে যেমন অফিসের দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। জলাবদ্ধতার মূল কারণ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন হুইপ প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম মাত্র চার শতক জায়গার ওপর এই কার্যালয় ভবনটি উদ্বোধন করেছিলেন। শুরুর কয়েক বছর কোনো সমস্যা না হলেও, পরবর্তী সময়ে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বা ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই পশ্চিমের পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি সরাসরি ভূমি অফিসে ঢুকে পড়ে। সাড়ে চার ফুট পানি, বিষধর সাপের আতঙ্ক
সম্প্রতি শনিবার মধ্যরাতের বৃষ্টিতে পুরো অফিস প্লাবিত হয় এবং রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসের ভেতরে প্রায় সাড়ে চার ফুট পানি স্থির অবস্থায় ছিল। একই সাথে বড়দিঘির পাড় সংলগ্ন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কেও কোমর সমান পানি জমে যায়। ঝুঁকি এড়াতে রোববার সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোমর পানি মাড়িয়ে অফিসে প্রবেশ করেন এবং আরএস, পিএস ও বিএস জরিপের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র নিরাপদে সরিয়ে নেন। তবে প্রতিনিয়ত পানি ওঠায় অফিসের আসবাবপত্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগে তিন ফুট উঁচুতে রেকর্ডপত্র রাখা যেতো, কিন্তু এখন পানির উচ্চতা বাড়ায় প্রায় পাঁচ ফুট উঁচুতে মাচা তৈরি করে নথিপত্র সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন জানান:"বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢল অফিসে ঢুকে পড়ে। পানির ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। অফিসের নিচে ড্রেন থাকায় একদিকে মশার উপদ্রব, অন্যদিকে বিষধর সাপের আতঙ্ক রয়েছে। গত মঙ্গলবার ছাদের সিলিং থেকে সাড়ে চার ফুট লম্বা একটি বিষাক্ত সাপ এক অফিস সহায়কের গায়ের ওপর পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।"তিনি আরও জানান, কোনো একটি রেকর্ড বই নষ্ট হলে সাতটি মৌজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়বেন। সমাধানের খোঁজে প্রশাসনসহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আবু রায়হান জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীও সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
তবে নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে জানান, নিয়মানুযায়ী একটি দ্বিতল ভূমি অফিসের জন্য কমপক্ষে ১০ শতক জায়গার প্রয়োজন হয়, অথচ বর্তমান অফিসটি রয়েছে মাত্র চার শতক জায়গার ওপর।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবিএম মসিউজ্জামান বলেন, "সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"