
মোঃ সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আধুনিক অবকাঠামো ও নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ও টেকসই পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ হাবীব আজম।
তিনি বলেন, রাঙামাটির পাহাড়, হ্রদ, সবুজ বনাঞ্চল ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পর্যটন খাত সম্প্রসারিত হলে হোটেল, রিসোর্ট, হোমস্টে, স্থানীয় রেস্তোরাঁ, নৌপরিবহন, গাইড সেবা, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তরুণ উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন এবং নারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১৪ মাসের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে হাবীব আজম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পর্যটন খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে নতুন ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পাহাড়ি ঢালে নিরাপদ সিঁড়ি স্থাপন, আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম নির্মাণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে ফিশারি ঘাট এলাকায় যাত্রীদের জন্য ছাউনি, বসার ব্যবস্থা এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে নৌভ্রমণে আগত দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে; পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সুরক্ষা বেষ্টনী স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ভিউ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। সেখান থেকে কাপ্তাই লেক ও আশপাশের পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য এক নজরে উপভোগ করা যায়। ইতোমধ্যে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জায় ভিউ টাওয়ারটি আরও মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সাজেক ভ্যালি এলাকায় পার্কিং সুবিধা সম্প্রসারণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যানবাহন ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। ফলে পর্যটকদের যানজট ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে। পাশাপাশি কংলাক পাহাড়-এ সিঁড়ি নির্মাণের ফলে দুর্গম পথ সহজ হয়েছে এবং পরিবারসহ বয়স্ক পর্যটকরাও এখন নিরাপদে চূড়ায় পৌঁছাতে পারছেন।
পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাহাড় কাটা বা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এমন কোনো কার্যক্রম না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, প্লাস্টিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পরিকল্পিত ও নান্দনিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে রাঙামাটি শুধু দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো, নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিবেশ-সম্মত উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয়ে রাঙামাটি এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।