
গাজী আব্দুল আলীম, নিজস্ব প্রতিনিধি:
মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সদিচ্ছায় আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু,অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলার প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে।জেলা ম্যাজিস্ট্রেট,এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, এসি ল্যান্ডসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিবিড় তদারকি অব্যাহত রেখেছেন।
বিশেষ করে স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে যেখানে অনিয়ম বা সহিংসতার অভিযোগ ছিল,সেসব এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,এবারের নির্বাচন হবে অতীতের তুলনায় অধিক নিরাপদ,সুশৃঙ্খল ও ব্যতিক্রমধর্মী।
ভোটারদের করণীয়
নির্বাচনকে সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটারদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভোটারদের সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে দাঁড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।পুরুষ ও মহিলাদের জন্য থাকবে পৃথক লাইন।
পরিচয় যাচাই শেষে পোলিং অফিসার ভোটারদের ব্যালট পেপার প্রদান করবেন এবং আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে।এরপর নির্ধারিত বুথে গিয়ে ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল দিয়ে ব্যালট ভাঁজ করে ভোট বাক্সে জমা দেবেন।ভোট প্রদান শেষে সিল জমা দিয়ে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করার নির্দেশনা রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে অহেতুক জটলা বা অপ্রয়োজনীয় অবস্থান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণেই গণতন্ত্রের সার্থকতা
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নিজের ভোট নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দিন এবং কোনো প্রকার উত্তেজনা,বাকবিতণ্ডা বা সংঘাতে জড়াবেন না। পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের ভোটদানে উৎসাহিত করাও একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জাতীয় জীবনে একটি গ্রহণযোগ্য সরকার গঠনের পথ সুগম করবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন,অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
২০২৬ সালের অঙ্গীকার হোক—নিরাপদ,শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন।
সময়মতো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।
সবাই ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন।দেশ গঠনে অংশ নিন।