
ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে মাদক ও জুয়ার বিস্তার দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সামাজিক ব্যাধির কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা জানান, মাদক ও জুয়া কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলমান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিরোধ ও আইনগত ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, অন্যায়, অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে যখন মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ হয়ে যায়, তখন একটি সমাজ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। বর্তমানে পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও জুয়ার বিস্তার সেই আশঙ্কাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। তরুণদের একটি অংশ শিক্ষার পরিবেশ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, কর্মক্ষম যুবকদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে এবং পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরিঢালী, কপিলমুনি, লতা, দেলুটি, সোলাদানা, লস্কর, গদাইপুর, রাড়ুলী, চাঁদখালী ও গড়ইখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও জুয়ার কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
সচেতন মহলের মতে, শুধু প্রশাসনের একক প্রচেষ্টায় নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অভিযোগ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও প্রচলিত জুয়াবিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী, জুয়া আয়োজক ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনগণের মতে, মাদক ও জুয়া নির্মূলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে পাইকগাছাকে মাদক ও জুয়ামুক্ত করা সম্ভব।
পাইকগাছাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে উপজেলার পৌরসভাসহ সকল ইউনিয়নে মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধ করা হবে এবং একটি নিরাপদ, সচেতন ও সুন্দর পাইকগাছা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সচেতন নাগরিকদের ভাষায়, “আমরা এমন একটি পাইকগাছা চাই, যেখানে তরুণদের হাতে থাকবে বই, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন; মাদক কিংবা জুয়ার আসর নয়।”