
মোঃ শাহাদাত হোসাইন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের ছয়বারের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ (৮২) আর নেই। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাঁকা ভবানীপুরস্থ নিজ বাসভবনে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন পুত্র, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিকেলে বাঁকা শহীদ কামরুল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কিবরিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সাবেক কমান্ডার ও সংসদ সদস্য সম বাবর আলী, সাবেক কমান্ডার গাজী রুহুল আমিন, বিএম আনিসুর রহমান, জিএম জামির হোসেন, রনজিৎ কুমার সরকারসহ অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজা শেষে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এলাকার এই জনপ্রিয় নেতা ও সমাজসেবকের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ তাঁর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ছুটে আসেন। জানাজায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী আবুল কালাম আজাদ একাধারে ছিলেন সফল জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ। তিনি টানা ছয়বার রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, রাড়ুলী আরকেবিকে হরিশ্চন্দ্র ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ, বাঁকা শহীদ কামরুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের উপজেলা সভাপতি এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন একজন সফল অভিভাবক। তাঁর সন্তানরা বাংলাদেশ পুলিশ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রবীণ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবকের মৃত্যুতে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।