
মোঃ শাহাদাত হোসাইন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত এ অভিযানে ১০ থেকে ১৫টি পরিবারের বসতঘর স্কেভেটরের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, উচ্ছেদ করা জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬২ শতক জমি তাদের নিজস্ব। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নিজেদের বসতভিটা হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোতালেব হোসেন জানান, পাউবোর সীমানা প্রাচীরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবার অবৈধভাবে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছিল। সরকারি জমি খালি করার জন্য তাদের বারবার সতর্ক করা হয় এবং দুই দফা নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু তারা জায়গা না ছাড়ায় জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রিফাত বিন রফিক, আরডিসিও আরিফুজ্জামান আরিফ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, উচ্ছেদ অভিযানের সময় বাতিখালী গ্রামের বাসিন্দা তারক চন্দ্র সানা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাতিখালী মৌজার ২৬৯ খতিয়ানের ১৪৫, ১৪৬ ও ১৪৭ নম্বর দাগে তারক, সুভাষ, বিধান, অসীম ও রবীন্দ্রনাথ সানাসহ পাঁচজনের নামে সাড়ে ৬২ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে এবং নিয়মিত দাখিলাও পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া ওই জমি সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সকল আইনগত প্রক্রিয়া ও নিয়মনীতি অনুসরণ করেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হলেও, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।