
মোঃ শাহাদাত হোসাইন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আলোচিত মৌখালী (বদ্ধ) জলমহালের বাঁধ অপসারণ এবং স্বাভাবিক পানি প্রবাহে ব্যাঘাত সৃষ্টির অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করেছেন পাইকগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বি।
শুক্রবার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শোনেন। এ সময় মৌখালী জলমহালের খাস ইজারাদার হাফিজুর রহমান মোল্লা এবং কৃষক মাহাফুজুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহল খাস বন্দোবস্তের নামে নদীর অংশ দখল করে বাঁধ নির্মাণ, মাছ চাষ এবং ঘরবাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে নদীর শ্রেণি পরিবর্তন করেছে।
তাদের দাবি, এর ফলে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার একাধিক মৌজায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমির ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাটও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ গড়ের আবাদ এলাকার খাল ইজারাদার হাফিজুর রহমান মোল্লা বাদী হয়ে স্থানীয় জেনারুল মাস্টার, জয়নাল গাজী, কিনু গাজী, আব্দুল মজিদ সানা, হযরত আলী, মুজিবুর রহমান, ইসলাম সানা, বাবুল সানা, খালেক সানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে খাস বন্দোবস্তপ্রাপ্তদের পক্ষে বাবুল সানা জানান, এসএ ম্যাপ অনুযায়ী নদীটি পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত। তিনি দাবি করেন, ১৯৮০-এর দশকে তারা বৈধভাবে খাস বন্দোবস্ত গ্রহণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছেন। এছাড়া পাইকগাছা সীমান্ত বরাবর পানি চলাচলের সুবিধার্থে ২৫ ফুট প্রশস্ত খাল রেখে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তদন্ত শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বি বলেন, “নদী বাঁচলে আমরা সবাই ভালো থাকব। মৌজা ম্যাপ, বন্দোবস্তের দলিল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নদীটিকে আগের অবস্থায় কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”