
পথিক কবি, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
একসময় অর্ধাহারে দিন কাটানো সেই শিক্ষিত বেকার যুবক আজ এলাকার সফল উদ্যোক্তা। খুলনার রুপসা টেম্পুস্ট্যান্ডে ছোট্ট টিনের চালার ঘরে শুরু হওয়া “সুমনের আলুপুরির দোকান” এখন স্থানীয়দের কাছে এক পরিচিত নাম। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বিক্রি হওয়া এই দোকানের মালিক সুমন আজ পরিশ্রম আর সততার জোরে কোটিপতি।
২০০৮ সালে ছোট পরিসরে ব্যবসাটি শুরু করেন সুমন। তবে তারও আগে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাড়িতে তৈরি আলুপুরি ঝাকায় করে মানুষের দরজায় দরজায় হেঁটে বিক্রি করতেন তিনি। নিজের হাতে তৈরি পুরি, সঙ্গে তেঁতুলের বিশেষ সস ও পেঁয়াজের পরিবেশন—এই স্বাদ অল্প সময়েই মানুষের মন জয় করে নেয়।
বর্তমানে দোকানটিতে ১০ থেকে ১১ জন কর্মচারী কাজ করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। অনেককে লাইনে দাঁড়িয়ে পুরি কিনতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, স্বাদ ও ব্যবহার—দুই দিক থেকেই সুমনের দোকান আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
সুমনের জীবনের গল্পটিও বেশ সংগ্রামের। বি.এ. পাস করার পরও চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। এরই মধ্যে হারান রিকশাচালক বাবাকে। একমাত্র মাকে নিয়ে কঠিন দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটালেও তিনি হাল ছাড়েননি। ছোট এই ব্যবসাকেই আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে থাকেন।
দীর্ঘ ২৩ বছরের কঠোর পরিশ্রম আজ তাকে এনে দিয়েছে স্বচ্ছলতা ও সম্মান। ফয়লা বাজারের পাশে গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন দুইতলা বাড়ি, ঘাট বাঁধানো পুকুরসহ আরও নানা সম্পদ। তবে সাফল্যের পরও নিজের শেকড় ভুলে যাননি সুমন।
এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সুমন বলেন,
“আমার ঘাম ঝরানো এই ব্যবসাই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আমি সারাজীবন এই ব্যবসার সঙ্গেই থাকতে চাই। সুযোগ পেলে আরও বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবো।”
স্থানীয়দের কাছে সুমন এখন শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী নন, বরং তরুণ সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণা ও সংগ্রামী জীবনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।