
গাজী আঃ আলীম,নিজস্ব প্রতিবেদক:
একজন সংগ্রামী,আপোষহীন ও দেশপ্রেমিক মায়ের প্রয়াণে জাতি আজ গভীর শোক ও শূন্যতার মুখোমুখি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম,ব্যক্তিগত বেদনা ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও যিনি আদর্শ ও নৈতিক অবস্থান থেকে কখনো সরে যাননি—তার বিদায়ে দেশ হারালো এক অনন্য অভিভাবকসুলভ নেতৃত্বকে।
রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও নৈতিক অবস্থানের প্রতীক। দীর্ঘ সময় কারাবরণ,নানামুখী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখেও অন্যায়ের কাছে আপস না করে অবিচল থেকেছেন নিজ বিশ্বাসে।গুরুতর অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রায় ১৭ বছর দেশের মাটিতে অবস্থান করে তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠিন সময় পার করেছেন সাহস ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে।
দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও দৃঢ়। নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি জাতিকে সাহস, প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। রাজনীতির উত্তাল সময়ে তার নৈতিক দৃঢ়তা ছিল অনেকের জন্য আশ্রয়স্থল ও অনুপ্রেরণার উৎস।
ব্যক্তিজীবনে তার ত্যাগ ছিল গভীর ও নীরব। ছোট ছেলের অকাল মৃত্যু,জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছুই তিনি বহন করেছেন অসীম ধৈর্য,সহনশীলতা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে।বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে তিনি যেন সংগ্রাম ও সাহসের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে এই আকস্মিক প্রয়াণ জাতির বেদনাকে আরও গভীর করেছে। রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্ব বহমান থাকলেও একজন অভিভাবকসুলভ মায়ের শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ।
তার মৃত্যুতে দেশ হারালো কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নয়,বরং হারালো একজন নৈতিক অভিভাবককে—যিনি সংকটে সাহসের এবং সংগ্রামে অবিচলতার প্রতীক হয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আমরা বিশ্বাস করি,তার জীবন,আদর্শ ও ত্যাগ আগামী প্রজন্মকে ন্যায়,সাহস ও আত্মমর্যাদার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।মহান আল্লাহর দরবারে আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।