
মোঃ শাহাবুদ্দিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট একুশে নিউজ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সবার নজর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের দিকে। বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত আসনে দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেত্রীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। এই মনোনয়ন দৌড়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পরিচিত মুখ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন।
শাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম-৫ সংসদীয় আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের জ্যেষ্ঠ কন্যা। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয়। বিগত সরকারের আমলে তিনি চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। ২০১৫ সালে 'জ ঙ্গি অর্থায়নের' অভিযোগে তাকে দীর্ঘ ১০ মাস ৮ দিন কারাবরণ করতে হয়। সম্প্রতি আদালত সেই মামলা থেকে তাকে সসম্মানে খালাস প্রদান করেছে, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
পেশাগত জীবনে শাকিলা ফারজানা একজন সফল আইনজীবী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজপথে এবং আইনি অঙ্গনে বিএনপির নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দলীয় নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদান ও মানবাধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
চট্টগ্রাম ও হাটহাজারী বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবি, শাকিলা ফারজানা সংকটের সময়ে দলের পাশে ছিলেন। তার মতো উচ্চশিক্ষিত ও লড়াকু নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করলে সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন এবং চট্টগ্রামের মানুষের কথা বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, জয়ের আনুপাতিক হারে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি একাই ৩৫টির বেশি আসন পেতে পারে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে, সংরক্ষিত আসনে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই মানদণ্ডে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা জানান, “দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও ত্যাগ বিবেচনা করে হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মাথা পেতে নেব। আমার লক্ষ্য জনসেবা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাওয়া”।