বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ শাকিল ভূঁইয়া :
গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক সহিংসতার জেরে এক নারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত মামুন (৪৮) ঘটনার পর থেকেইপলাতক রয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী নারী কারীমা বেগম বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটে, কালিগঞ্জ উপজেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামে। আহত কারীমা বেগম ওই গ্রামের মৃত সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত মামুন দীর্ঘ ২৭ বছর কারীমার স্বামী ছিলেন। তাদের সংসারে কোনো সন্তান না থাকলেও দাম্পত্য জীবনে কারীমা দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি মামুনকে তালাক দিতে বাধ্য হন। তালাকের পরও মামুন বিভিন্ন সময়ে কারীমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন কারীমা নিজ বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে মামুন সেখানে প্রবেশ করে এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় কারীমার দুই পা ও এক হাতগুরুতরভাবে জখম হয়।চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ও স্বজনরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাজীপুর সদর হাসপাতাল,পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এর জরুরি বিভাগে ভর্তি করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে।বর্তমানে কারীমা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। চিকিৎসা করার মতো অর্থকারিনার কাছে নেই বলেও জানান তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে ধার দেনা ও সহযোগিতা চেয়ে এই পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যান কারিমা ।এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও পরে বাড়ি ফেরার পথে ভুক্তভোগী কারীমা অভিযুক্ত মামুনের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে থানা সূত্র জানায়, মামুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। স্থানীয়রা জানায় ,“এটি একটি গুরুতর হত্যাচেষ্টার ঘটনা, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি সকলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাইএ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ওদৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।নারী নির্যাতনের এমন নৃশংস ঘটনা আবারও সমাজে পারিবারিক সহিংসতা ও আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।