সুরাইয়া আক্তার ইশিতা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাহিত্য, সংগীত ও সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয় সুন্দরবন সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদ আয়োজিত “সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ২০২৬”। গত ১২ জুন (শুক্রবার) বিকেল ৫টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনে দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল আলিম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোঃ আজগর হোসেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের দৌহিত্র ও সাবেক তথ্য সচিব সৈয়দ মাগুর্ব মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক ডি. এ. তায়েব। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী নাসির, প্রিন্স আলমগীর এবং খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার অ্যাডলফ খান।
সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনা। প্রতিভাবান সংগীতশিল্পী শিমলা আক্তার তাঁর সুরেলা কণ্ঠে একের পর এক গান পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে এবং শ্রোতাদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
উল্লেখ্য, ‘সৃষ্টিশীল মিউজিক স্টুডিও’র ব্যানারে প্রকাশিত শিমলা আক্তারের মৌলিক গানগুলো বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাঁর গান সব বয়সী শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত হয়েছে।
এছাড়া কণ্ঠশিল্পী নাসির ও প্রিন্স আলমগীরের সংগীত পরিবেশনা দর্শকদের আনন্দিত করে। অন্যদিকে অ্যাডলফ খানের নান্দনিক ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে এবং দর্শকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই।
সবশেষে সুন্দরবন সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের এই আয়োজনকে মানবতা, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করা হয়। প্রাণবন্ত পরিবেশ ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে।