
মোঃ শাহাবুদ্দিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট একুশে নিউজ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মহাসড়কের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২নং গেট সংলগ্ন আলাওল ফিলিং স্টেশনে এক ব্যতিক্রমী ও বিস্ময়কর দৃশ্য দেখা গেছে। তেলের জন্য যখন শত শত মোটরসাইকেল চালক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, ঠিক তখনই এক প্রাইভেটকার মালিককে গাড়ির ভেতরে বড় ড্রামে (গ্যালন) করে অকটেন মজুদ করতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ওই ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য সাধারণ গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। তীব্র গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ যখন নাভিশ্বাস তুলছেন, তখন জনৈক এক প্রাইভেটকার মালিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাম্পের কর্মীদের যোগসাজশে ড্রাম ভর্তি করে তেল নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারের পেছনের অংশ (ব্যাকডালা) খোলা রেখে সেখানে বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম রাখা হয়েছে। পাম্পের নজলে সরাসরি সেই ড্রামেই অকটেন ভরা হচ্ছে। যেখানে সাধারণ চালকদের চাহিদামত তেল পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে এভাবে ড্রামে করে জ্বালানি মজুদ করা নিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
লাইলে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে বলেন, "আমরা সামান্য কয়েক লিটার তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে দাঁড়িয়ে আছি। অথচ নিয়ম ভেঙে কেউ কেউ ড্রাম ভরে তেল নিয়ে যাচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের চোখের সামনে এসব চললেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।"
জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ড্রামে বা গ্যালনে করে দাহ্য পদার্থ পরিবহন এবং মজুদ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে এই অসতর্কতা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ চালক ও স্থানীয় সচেতন মহল।