
মোঃ শাহাদৎ হোসেন : স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় আহত স্বামী-স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শিলাইদহ ইউনিয়নের ওই গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মুতাই শেখ ও তার স্ত্রী কমেলা খাতুনের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় দুলাল শেখের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের বসতবাড়িতে চড়াও হয়। কোনো প্ররোচনা ছাড়াই হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে মুতাই শেখ প্রতিবাদ জানান, যার ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা হাসুয়া, বাটাম ও বাঁশ দিয়ে তাকে এবং তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে। হামলায় গুরুতর আহত কমেলা খাতুন পিঠ ও কোমরে প্রচণ্ড আঘাত পান এবং চুল ধরে টানাটানি করে তার জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং বাড়িতে থাকা দুই গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়, প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের শ্বশুরকেও মারধর করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন দুলাল শেখ, জয় শেখ, রফিকুল শেখ, আলিফ, মঞ্জু শেখ, হেলাল শেখ, রুমা খাতুন ও মিসমা। ঘটনার মূল কারণ হিসেবে বাড়ির জায়গায় থাকা মেহগনি গাছের ডাল ঘরের চালের ওপর পড়ার বিষয়টি সামনে এলেও উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ইতিহাস রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুলাল শেখ ও মঞ্জু শেখ দাবি করেছেন যে, পূর্বের একটি মারামারির ঘটনায় মুতাই পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তারা জেলেও ছিলেন। এছাড়া তাদের দাবি অনুযায়ী, ইতিপূর্বে জমি নিয়ে সালিশ হলেও প্রতিপক্ষ সেই সালিশের নির্দেশ অমান্য করে আসছিল। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি, তবে অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।