
স্টাফ রিপোর্টার
ব্রিতে পদোন্নতি, নিয়োগ, প্রকিউরমেন্ট ও টেন্ডারকে ঘিরে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রি প্রবিধানমালায় সংশ্লিষ্ট পদের অস্তিত্ব কিংবা নিয়োগযোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের তদন্ত কমিটিতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কাওছার আহমেদকে ফার্ম সুপারিনটেনডেন্ট ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কাওছার আহমেদ নিয়মিত উপপরিচালককে অকার্যকর করে ব্রির নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রকিউরমেন্ট ও টেন্ডারে অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ড. মো. ইব্রাহীম সিএসওকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে কাওছার আহমেদের বিরুদ্ধে বিগত ১৫ বছরের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কাওছার বর্তমানে ডিজির অনৈতিক অর্থ সংগ্রহের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন। ব্রি প্রবিধানমালায় তাঁর পদ না থাকা সত্ত্বেও ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে—এমন দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নামে-বেনামে অন্তত চার থেকে পাঁচটি ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
অন্যদিকে, বিগত ১৫ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ফটোগ্রাফার মাসুম রানাকেও এ ও পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাসুম রানা আওয়ামী লীগের বিনা ভোটের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে সিল মারা-সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তৎকালীন মহাপরিচালককে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ড. রফিকুল ইসলামকে মহাপরিচালক বানানোর মিশনেও তাঁরা অর্থদাতা ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ড. রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুকুলের অনুসারীরা ব্রি হিসাব বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. রুহুল আমিনকে অফিস চলাকালীন অফিস চত্বরে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার নেতৃত্বে ফেনীর নিজাম হাজারীর আত্মীয় এবং ড. রফিকের সোনাগাজীর দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা আনোয়ারুল আজিম ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
রুহুল আমিন লিখিত অভিযোগ করলেও অদ্যাবধি কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।