
(ঝালকাঠি)প্রতিনিধি:
মো : সাইফুল ইসলাম রানা
রিপোর্টার : জাতীয় পত্রিকা একুশে,। ৷৷।।।।।
তিন গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন নিয়ে চরম দুর্ভোগ, ক্ষোভ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বান্দাঘাটা–কৈখালী সংযোগ সড়কের চেচরী রামপুর ইউনিয়নের খুনেরবাসা এলাকায় নৌ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ খালের ওপর অপর্যাপ্ত উচ্চতায় সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণাধীন সেতুটির উচ্চতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় ভবিষ্যতে খালের নিচ দিয়ে নৌকা ও ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে আশপাশের অন্তত তিন গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুনেরবাসা খালটি আশপাশের তিন গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। পর্যাপ্ত সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রামের মানুষ নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করে আসছেন।
সম্প্রতি খালের ওপর থাকা পুরোনো স্টিলের বেইলি সেতুটি ভেঙে গেলে সেখানে নতুন পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদার দীর্ঘ কয়েক মাস কাজ ফেলে রাখায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও সেতুটির নকশা ও উচ্চতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের তলদেশ থেকে সেতুর প্রয়োজনীয় উচ্চতা নিশ্চিত না করেই পানি ছুঁই ছুঁই অবস্থানে সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে খালের নিচ দিয়ে ছোট-বড় নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, সেতু নির্মাণের আগে খালটির নৌযান চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত উচ্চতা ও উপযুক্ত নকশা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় তিন গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা নির্মাণকাজের বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নকশা ও নির্মাণের উচ্চতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যতে নৌ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন তিন গ্রামের মানুষের নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে, অন্যদিকে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত ভোগান্তি ও ব্যয় বাড়বে।
তাই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে সেতুর নকশা, উচ্চতা ও নৌযান চলাচলের উপযোগিতা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক নৌ চলাচলও অব্যাহত থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে পাঁচ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।