

*নিজাম উদ্দিন, সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি:
দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ এবং হযরত শাহজালাল (রঃ) ও হযরত শাহপরান (রঃ) এর পুণ্যভূমি হিসেবে খ্যাত সিলেট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি এই সিলেটে শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথেই পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুরা প্রকৃতির টানে ছুটে আসছেন সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় জাফলং, ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এবং জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিলে।
*জাফলং: স্বচ্ছ জলের মায়াবী রাজ্য*
সিলেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জাফলং। এখানকার স্বচ্ছ, টলটলে পানির নিচে নুড়ি পাথরগুলো স্পষ্ট দেখা যায়, যা পর্যটকদের মনকে মুহূর্তেই জুড়িয়ে দেয়। পিয়াইন নদীর বুকে নৌকায় ভেসে বেড়ানো, পাথর সংগ্রহ এবং ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় করছেন। অদূরে ভারতের ডাউকি ঝুলন্ত ব্রিজের নৈসর্গিক সৌন্দর্য পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ যোগায়। এছাড়া পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা মায়াবতী ঝর্ণার কলকল ধ্বনি পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে এক স্বর্গীয় অনুভূতি এনে দেয়।
*ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর: পাথর, পাহাড় ও নদীর মিলনমেলা*
জাফলংয়ের পরেই পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। ধলাই নদীর বুকে সাদা পাথরের ছড়াছড়ি, স্বচ্ছ নীল জলরাশি এবং ওপারে মেঘালয়ের উঁচু উঁচু পাহাড়ের সারি মিলে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। নৌকা থেকে নেমে স্বচ্ছ পানিতে গা ভিজিয়ে আনন্দে মেতে উঠছেন পর্যটকরা।
*জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিল: প্রকৃতির লাল গালিচা*
প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য আরেক বিস্ময় জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর বা লাল শাপলার বিল। যতদূর চোখ যায়, পুরো বিলজুড়ে ফুটে আছে হাজারো লাল শাপলা। মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজ হাতে লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। ভোরের শিশিরভেজা আলোয় লাল শাপলার হাসি এবং বিলের জলে অতিথি পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মন জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। অনেকেই নৌকা নিয়ে বিলের মাঝখানে গিয়ে এই অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় এবার পর্যটকদের আগমন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো সিলেট অঞ্চল, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।