
মোঃ নাসির উদ্দিন
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর, ২৭ জুন ২০২৬: গবেষণা, উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘গাকৃবির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরিচিতিকরণ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের উদ্যোগে শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
সেমিনারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাত ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে টেকসই কৃষি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম অফ্রাদ এবং পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
সেমিনারে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, শ্রীপুরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বদনিভাঙ্গা ও পাজুলিয়া গ্রামের ৪০ জন কৃষক-কৃষাণী, খামারি ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রহমান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাত, আধুনিক উৎপাদন কৌশল, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি এবং গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো, ফলন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তুলে ধরেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম অফ্রাদ মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গাকৃবির অবদানের কথা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শুধু গবেষণাগার বা প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ থাকলে তার পূর্ণ মূল্যায়ন হয় না। প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন সেই উদ্ভাবন কৃষকের মাঠে পৌঁছে উৎপাদন বাড়ায়, ব্যয় কমায় এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এ লক্ষ্যেই গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে এবং কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গবেষণার শক্তিতে রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
সেমিনারের শেষ পর্বে কৃষক ও উদ্যোক্তারা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সমস্যা এবং প্রযুক্তি গ্রহণে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয় তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এতে কৃষক ও গবেষকদের মধ্যে প্রাণবন্ত মতবিনিময়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পরে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এবং গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন। এর মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।