
মোঃ মোনাহার মিয়া
স্টাফ রিপোর্টার ।।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে পোশাক কর্মী রুবাইয়া আক্তার বিনা হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর, ২০২৫) দুপুর ১২ টায় বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে নিহত পোশাক কর্মী রুবাইয়া আক্তার বিনার নিজ গ্রাম বাট্টাজোড় বীরগাঁও গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই প্রতিবাদী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পোশাক কর্মী বিনা হত্যায় জড়িত তার স্বামী জুয়েল মিয়া ও অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির হুশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—
মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক, প্রধান সমন্বয়কারী, জাতীয় নাগরিক পার্টি বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখা।
তৌহিদুজ্জামান তৌহিদ, যুগ্ম সদস্য সচিব, জামালপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি।
ইন্জিনিয়ারিং মোঃ শাহরিয়ার আহমেদ সুমন, আহ্বায়ক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখা।
মোঃ সুলতান মাহমুদ, নিহত গৃহবধূ বিনার বাবা।
হাসান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখা।
মোঃ রেজওয়ানুল হক, সেক্রেটারি, ইসলামী ছাত্র শিবির বকশীগঞ্জ থানা।
বক্তারা বলেন, গত ১৭ নভেম্বর গাজীপুরের গাছা থানাধীন বড়গাছি এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পোশাক কর্মী বিনার (পিতা: মোঃ সুলতান মাহমুদ, গ্রাম: বীর গাঁও হাসিনা গাজী বাজার, থানা: বকশীগঞ্জ) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটি যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহত বিনার চাচাতো ভাই হাসান মাহমুদ অভিযোগ করেন, আনুমানিক ২ বছর ৩ মাস আগে জুয়েল মিয়ার (পিতা: জয়নাল, গ্রাম: সাতানি পাড়া, থানা: বকশীগঞ্জ) সাথে পারিবারিক ভাবে বিনার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে বাড়ি নির্মাণের জন্য আরো ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে জুয়েল ও তার পরিবার। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ১৭/১১/২০২৫ তারিখ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে কোনো একসময় জুয়েল মিয়া তার মা ও দুই বোনের কুপরামর্শে বিনাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুনি জুয়েল লাশ গোপনে গাজীপুরের তারুননেছা হাসপাতালে নিয়ে বিনার নাম পরিবর্তন করে ‘রাবিয়া’ উল্লেখ্য করে। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করলে জুয়েল তার দুই বোন জামাইয়ের পরামর্শে দ্রুত লাশ নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাউকে না জানিয়ে দাফন করার ষড়যন্ত্র করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালায়।
পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বিনার লাশ উদ্ধার করা হলে তার শরীরে মারের আঘাত, পিঠে আঘাত, কান দিয়ে রক্ত পড়া এবং গলায় কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে খুনি জুয়েল তার পরিবারসহ পলায়ন করে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হত্যার ৭ দিন পার হলেও পুলিশ এখনো আসামি জুয়েল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি, এমনকি গ্রেপ্তারের কোনো চেষ্টাও করছেন না। তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে