
স্টাফ রিপোর্টারঃ একুশে নিউজ
২০২৫-২৬ অর্থবছরে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুকূলে সরকারি অনুদান প্রদানকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে জেলার ২৭টি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে অনুদান প্রদান করা হলেও অভিযোগ উঠেছে, তালিকাভুক্ত কয়েকটি সংগঠনের বাস্তবিক কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম বা দৃশ্যমান অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নাটক, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে আসা বেশ কয়েকটি সক্রিয় সংগঠন প্রত্যাশিত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ এমন কিছু সংগঠন সরকারি অনুদান পেয়েছে, যাদের নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা জনসম্পৃক্ততার কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনুদানপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম যথাযথভাবে যাচাই না করেই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রশ্ন, অনুদান প্রদানের আগে যদি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই কমিটির কার্যকারিতা কোথায় ছিল? আর যদি কার্যকরভাবে যাচাই না করা হয়ে থাকে, তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় কথিত অকার্যকর বা অস্তিত্বহীন সংগঠনগুলো সরকারি অনুদান পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হলো?
তাদের মতে, সরকারি অনুদানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করা এবং সক্রিয় সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। কিন্তু বাস্তব কার্যক্রমবিহীন সংগঠনকে অনুদান প্রদান করলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় না এবং প্রকৃত সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বঞ্চিত হয়।
এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিটি সংগঠনের নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আর্থিক স্বচ্ছতা ও বাস্তব উপস্থিতি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।