
মোঃ শাহাদাৎ হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
আধ্যাত্মিক সুরের আবহ আর লাখো প্রাণের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে আজ পর্দা নামছে কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক লালন মেলার। ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও তিন দিনের এই মহোৎসবের আয়োজন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও লালন একাডেমি। গত তিন দিনের উৎসবমুখর পরিবেশ শেষে আজ সোমবার রাতে সমাপনী পর্বের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটছে ঐতিহ্যবাহী এই বিশাল আয়োজনের।
উৎসবের এই তিন দিন জাত-পাত ও ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সাঁইজির অসাম্প্রদায়িক বাণীতে একাত্ম হয়েছিলেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সব বয়সের মানুষ। মূল মঞ্চে খ্যাতিমান আলোচক ও গবেষকরা লালনের দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আখড়াবাড়ির প্রতিটি কোণে বাউলদের আসরে লালনের গানের বাণীতে মুখরিত ছিল দিন-রাত। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সাধুরা মেতে ছিলেন আত্মশুদ্ধির ভাবনায়।
মাজার প্রাঙ্গণকে বর্ণিল সাজে সাজানোর পাশাপাশি বাইরে বসেছিল বিশাল লোকজ পণ্যের প্রদর্শনী ও গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা থেকে শুরু করে গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা সামগ্রী মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছে। মেলার কারণে কুমারখালী ও কুষ্টিয়া শহরজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যাপক প্রাণ সঞ্চার হয়েছে।
আজ শেষ প্রহরে এসে তাই সাধুর হাটে লেগেছে ঘরে ফেরার টান। লালন একাডেমির মূল মুক্তমঞ্চে আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী আলোচনা ও বাউল গানের চূড়ান্ত আসর। আয়োজকরা জানিয়েছেন, উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সাঁইজির সার্বজনীন মানবতার বার্তা সারাবছরই ছড়িয়ে থাকবে ভক্তদের অন্তরে।