
জর্ডানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাসপোর্ট নবায়ন কিংবা নতুন পাসপোর্ট করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারও জন্ম নিবন্ধনের জটিলতা, কারও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সমস্যা, আবার কারও নামের বানান ভুল—সব মিলিয়ে একটি মৌলিক সেবা পেতে গিয়ে সাধারণ প্রবাসীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জর্ডানে যাদের বৈধ রেসিডেন্স পারমিট (আকামা) রয়েছে, তাদের পাসপোর্ট ফি দিতে হয় ২৫ জর্ডান দিনার। অথচ কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ মাত্র একদিনের জন্যও উত্তীর্ণ হলে, তার কাছ থেকে ফি নেওয়া হচ্ছে ৭৯ জর্ডান দিনার। মাত্র একদিনের ব্যবধানে ৫৪ জর্ডান দিনার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা বিপুল অঙ্কের টাকা) অতিরিক্ত ফি আদায়ের এই নীতিমালাকে ‘অন্যায্য ও অমানবিক’ বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। প্রবাসীদের প্রশ্ন, যারা নানা জটিলতায় পড়ে আর্থিক সংকটে আছেন, তাদের ওপর এমন অতিরিক্ত আয়ের বোঝা চাপানো কতটা যৌক্তিক?
পাসপোর্ট ফি’র এই বৈষম্যের পাশাপাশি অনেক প্রবাসী অভিযোগ করেছেন যে, আম্মানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে সেবা নিতে গিয়ে তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। একজন প্রবাসী যখন নিজের দেশের দূতাবাসে যান, তখন তিনি সম্মান, সহানুভূতি ও কার্যকর সেবা প্রত্যাশা করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের চরম বিরূপ অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছি। কিন্তু নিজেদের দূতাবাসে এসে কেন আমাদের ভিক্ষুকের মতো আচরণ পেতে হবে? আমরা বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই—পাসপোর্ট সেবার জটিলতা কমান, অতিরিক্ত ফি সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করুন এবং একটি সত্যিকারের প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করুন।”