
গাজী আব্দুল আলীম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা: পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ ‘মা’—শৈশবে যে ডাক ছিল আদরের, যে ভাষায় প্রথম উচ্চারিত হয়েছিল ভালোবাসা, সেই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় রক্ত দিয়েছিলেন এ দেশের বীর সন্তানরা। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের সেই গৌরবময় ইতিহাস আজও বাঙালির অহংকার, প্রেরণা ও ঐক্যের প্রতীক।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে উত্তাল রাজপথ
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণ রুখে দাঁড়ায়। “উর্দু নয়, বাংলা হবে রাষ্ট্রভাষা”—এই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ মিছিল-সমাবেশে অংশ নেন। কারফিউ জারি থাকলেও আন্দোলনকারীরা তা ভেঙে রাজপথে নামেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
শহীদদের আত্মত্যাগে রক্তে রাঙানো একুশ
২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিক ,জব্বারসহ আরও অনেকে। রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়। সেই আত্মত্যাগ বাঙালির চেতনাকে জাগ্রত করে তোলে। দলমত নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ভাষার অধিকার আদায়ে সংগ্রাম চালিয়ে যান।
অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়। একুশে ফেব্রুয়ারি হয়ে ওঠে আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ের প্রতীক।
প্রভাতফেরি ও শ্রদ্ধাঞ্জলিতে চিরস্মরণীয় একুশ
প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় ভাষা শহীদদের। প্রভাতফেরি, একুশের গান এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্মরণ করে সেই মহান দিনকে। “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি”—এই অমর গান বাঙালির হৃদয়ে নাড়া দেয়।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানা ও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত—এই চেতনাই হোক আমাদের পথচলার প্রেরণা।
যতদিন পৃথিবীতে বাংলা ভাষা থাকবে, দেশে-বিদেশে উচ্চারিত হবে তার জয়গান। একুশ হোক আমাদের অহংকার, প্রেরণা ও ঐক্যের সোপান।