
মোঃ সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার, সলঙ্গা (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন চৈত্রহাটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি শুধু একটি সাধারণ রাস্তা নয়—বরং গ্রামের শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহৃত এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
জানা যায়, এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন দুইটি মাদ্রাসায় যাতায়াত করে অসংখ্য কোমলমতি শিক্ষার্থী। শিশুদের নিরাপদ চলাচলের জন্য যেখানে একটি উন্নত রাস্তা থাকা জরুরি, সেখানে বর্তমান ভাঙাচোরা ও কাদাময় পথ তাদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম দুর্ভোগের কারণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদায় পরিণত হয়, ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়:
রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়, যা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি সড়ক নাকি ফসলি জমি।
এছাড়াও, এই সড়ক দিয়েই এলাকাবাসী ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করতে যান এবং কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তাকে শেষ বিদায় জানাতে কবরস্থানে নেওয়া হয়। ফলে ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই রাস্তা। প্রগ্রামবাসীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা এই রাস্তার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে রোগী পরিবহন কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে এই পথ ব্যবহার করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। অনেক সময় যানবাহন আটকে যায়, ফলে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এই সড়কটি পাকা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের দাবি, একটি পাকা ও টেকসই সড়ক নির্মাণ করা হলে শুধু চৈত্রহাটি গ্রাম নয়, আশেপাশের এলাকার মানুষেরও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং গ্রামের মানুষ পাবে একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত ব্যবস্থাতিদিনই ছোট-বড় যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচল থাকলেও সড়কটির উন্নয়নে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দুর্ভোগের চিত্র: