
রাজিব আহমেদ (রাজু) ব্যুরোচিফ ফরিদপুর :
দেশের বিভিন্ন স্থানের মতোই অনেক এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে কৃষিজমির মাটি অবৈধভাবে কেটে বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার খবর। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, জরিমানা দেওয়ার পরও থেমে নেই এই অবৈধ কার্যক্রম। বরং একই স্থানে আবারও ভেকু মেশিন বসিয়ে আগের মতোই মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাটি কাটার দায়ে জরিমানা করলেও কার্যত সেই ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে না। ফলে অনেকের কাছেই এই জরিমানা যেন অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির ‘লাইসেন্স ফি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের ধার্য করা অর্থ পরিশোধ করে আবারও আগের চেয়ে বেশি হারে জমি কেটে মাটি বিক্রি শুরু করছে।
এতে শুধু উর্বর ফসলি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশও। ভারী ট্রাক ও ডাম্পার দিয়ে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামের রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধুলাবালু ও গর্তের কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সাধারণ মানুষের দাবি, অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির ক্ষেত্রে শুধু জরিমানা নয়, এই কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। তাদের প্রশ্ন—প্রশাসনের কি এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করার ক্ষমতা নেই? নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের কারণে এই মাটি কাটার সিন্ডিকেট বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে?
স্থানীয়দের মতে, যদি প্রশাসন সত্যিই কোনো মহলের কাছে দায়বদ্ধ না থাকে এবং কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা বন্ধ করা সম্ভব। অন্যথায় জরিমানা দিয়েই যদি ব্যবসায়ীরা আবার পরদিন থেকে একই কাজ শুরু করতে পারে, তবে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
তাই সাধারণ মানুষের জোর দাবি—উর্বর কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির এই কর্মকাণ্ড দ্রুত স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন।