
গাজী আব্দুল আলীম,নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকায় ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিদিনই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন।
বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে সরকার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।পুরো মেলা প্রাঙ্গণ নিরাপত্তার চাদরে আচ্ছাদিত থাকলেও প্রধান গেট সংলগ্ন রাস্তার বিপরীতে বিআরটিসি বাস পার্কিং এলাকা থেকে কিছুটা অগ্রসর হলে আলোর স্বল্পতার কারণে স্থানটি অনিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অনেক দর্শনার্থী।এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
দৃষ্টিনন্দন ও রঙিন আলোকসজ্জায় সজ্জিত প্রায় ৪০০টি স্টলে অংশ নিয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামকরা ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠান।স্যুট-কোট,ব্লেজার,শার্ট-প্যান্টসহ পোশাক সামগ্রী,টিভি,ফ্রিজ,ওভেন,মাইক্রোওভেনসহ গৃহস্থালি পণ্য,প্রসাধনী,খেলাধুলার সরঞ্জাম,ফাস্টফুড আইটেম এবং আবাসন প্রকল্প নিয়ে উপস্থিত রয়েছে একাধিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি।ভাইয়া গ্রুপ,গোল্ডসান কোম্পানি,বিভিন্ন রিসোর্ট ও আবাসন প্রকল্পের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী,ব্যবসায়ী,সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যাচ্ছে।দর্শনার্থীদের যাতায়াত সুবিধার্থে সরকার বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু রেখেছে,যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ৫০টাকা এবং অনূর্ধ্ব ১২বছর বয়সীদের জন্য ২৫টাকা।একাধিক গেট দিয়ে টিকিট চেকিংয়ের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মেলায় প্রবেশ করানো হচ্ছে।সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের অবিরাম আগমনে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ যেন ঈদের আমেজে মুখরিত।
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লক্ষাধিক দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করছেন।বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবারে এই সংখ্যা বেড়ে ৩ লক্ষেরও বেশি ছাড়িয়ে যাচ্ছে।বিভিন্ন স্টলে বিপণন কর্মকর্তারা পণ্যের গুণগত মান ও বিশেষ অফার সম্পর্কে দর্শনার্থীদের বিস্তারিত জানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।অনেক প্রতিষ্ঠান বুকিংয়ের বিপরীতে ডিনার সেট, মাইক্রোওভেন,ল্যাপটপ এমনকি সপরিবারে কক্সবাজার ভ্রমণের মতো আকর্ষণীয় উপহারও দিচ্ছে।
পূর্বাচলকেন্দ্রিক বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সেলস ও মার্কেটিং টিম আবাসন প্রকল্প ও কক্সবাজারের হোটেল-ল্যান্ড শেয়ার প্রকল্পের ব্রোশিওর প্রদর্শনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছেন।কেউ কেউ সরাসরি বুকিং দিচ্ছেন,আবার কেউ আগ্রহী ক্রেতাদের ভবিষ্যৎ যোগাযোগের জন্য কমিটমেন্ট নিচ্ছেন।
মেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে অনেক দর্শনার্থী সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করলেও যারা বিআরটিসি বাসে উঠতে পারছেন,তারা তুলনামূলক সহজে বাড়ি ফিরছেন।ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়,বছরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ঘিরে জনসাধারণের যে কৌতূহল,উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে,তা সত্যিই প্রশংসনীয়।পণ্যের গুণগত মান যাচাই,নতুন প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই বাণিজ্য মেলা।দেশীয় পণ্য ক্রয়ের পাশাপাশি সপরিবারে মেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজক ও দর্শনার্থীরা।