
গাজী আব্দুল আলীম,নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানীতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করলেও বিআরটিসি (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন) বাস সার্ভিসের অস্বাভাবিক অনুপস্থিতিতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন নগরবাসী।
রাজধানীর তেজগাঁও, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা, বাড্ডা, পল্টন, কাকরাইল, শাহবাগ, আগারগাঁও ও মিরপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী হাজারো চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিআরটিসি বাসের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু গত ১ জুন, ২ জুন এবং সর্বশেষ ৩ জুন থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বিআরটিসি বাস চলাচল কার্যত বন্ধ থাকায় তারা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি অফিস ব্যতীত অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে খুলে গেলেও বিআরটিসি বাস সার্ভিস স্বাভাবিক হয়নি। কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় নির্ধারিত ও তুলনামূলক কম ভাড়ায় যাত্রীসেবা প্রদান করায় দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিসি বাস সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক ছিল। তবে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ইজারা চুক্তির আওতায় নির্ধারিত ভাড়ায় সেবা চালিয়ে যাওয়ার কারণে ইজারাদারদের লাভের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করছেন।
জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই যাত্রী চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হয়। যেখানে পূর্বে একটি রুটে পাঁচটি বাস চলাচল করত, সেখানে বর্তমানে তিনটি বাস সীমিত সংখ্যক ট্রিপ পরিচালনা করে যাত্রীসেবা দিয়ে আসছিল। তাতেও লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হঠাৎ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষদের সকালবেলা কর্মস্থলে পৌঁছাতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেককে উবার, সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও মাইক্রোবাসে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা মনে করছেন, জনস্বার্থে দ্রুত বিআরটিসি বাস সার্ভিস পুনরায় চালু করা জরুরি। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইজারাদারদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে সমস্যার কারণ নির্ণয় এবং কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে।
রাজধানীবাসীর প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং বিআরটিসি বাস সার্ভিস পুনরায় স্বাভাবিক করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করবে।