
মো: সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার
রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারের পুরান পাড়া এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাজী মোঃ শামসুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ডের ভিত্তিতে তাদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় জমিটি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে হাজী শামসুল ইসলাম বলেন, তাদের জমির ওপর পরিকল্পিতভাবে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির উদ্দিন, এমদাদ হোসেন মানিক, মোঃ রুবেল, মোঃ নিজাম উদ্দিন, রাজু আহম্মদ খোকন ও মোঃ সোহাগসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে জমিতে নির্মাণকাজ চালাচ্ছেন। আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, জমিটির মালিকানা সংক্রান্ত সকল বৈধ কাগজপত্র, নামজারি, খতিয়ান ও পরিশোধিত খাজনার রসিদ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবুও অভিযুক্তরা দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে, যাতে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিতে নিরুৎসাহিত হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি কোতয়ালী থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তদের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। বরং অভিযোগ করার জেরে আরও বেশি চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন তারা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের সম্পত্তি বিরোধ নয়; বরং এটি আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভূমি দখলের সংস্কৃতি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ও উদাহরণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে, নচেৎ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।