
গোপালগঞ্জ স্টাফ রিপোর্টার মোঃ বরকত মোল্লা
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নিয়মিত লোডশেডিং ও দীর্ঘদিন ধরে জেনারেটর বিকল থাকায় সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ১০০টি আবেদন গ্রহণ এবং ৮০ থেকে ১২০টি পাসপোর্ট সরবরাহ করা হয়। পুরো কার্যক্রমই বিদ্যুৎনির্ভর হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। গত এক মাস ধরে জেনারেটর অচল থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা গ্রামের সম্পা বাড়ৈ পাসপোর্ট করতে এসে বিদ্যুৎ না থাকায় দুপুর ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। তিনি বলেন, “সকাল থেকে এসে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।”
একইভাবে কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা গ্রামের সুমি বেগম তার ছেলের পাসপোর্ট করতে এসে প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। তিনি বলেন, “বিদ্যুতের কারণে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। জরুরি সেবার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা থাকা উচিত।”
অন্যদিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের রাফসা জানান, “বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পুরো কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু সেবাগ্রহীতাই নয়, অফিসের কর্মকর্তারাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।”
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিদ্যুৎ ফিডার সংযোগের জন্য গোপালগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল জেনারেটর মেরামত বা নতুন জেনারেটর স্থাপনের বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মো. নুরুল হুদা বলেন, “অফিসে বর্তমানে একটি ফিডার সংযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় ফিডারের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিকল্প সংযোগ থাকলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেবা চালু রাখা সম্ভব হতো।”
এদিকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে রোটেশন পদ্ধতিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। শহরে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। তাই দ্রুত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি বলে তারা মনে করছেন।