
মোঃ সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার
রাঙ্গামাটির বালুখালী ৬নং ইউনিয়ন-এ ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্য বিক্রিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও নিম্নমানের তেল সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্য ৬১০ টাকা পরিশোধ করে টিসিবির প্যাকেজ পণ্য ক্রয় করলেও সরবরাহকৃত সয়াবিন/ভোজ্যতেলের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, প্যাকেজে দেওয়া তেল নিম্নমানের ও সন্দেহজনক। অনেক বোতলে কোনো সিল বা স্বীকৃত মানচিহ্ন নেই; এমনকি উৎপাদন তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। বোতলে ব্র্যান্ডের নাম বা অনুমোদিত লোগো না থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভোক্তারা আরও জানান, বর্তমানে শীতকাল না হলেও তেল অস্বাভাবিকভাবে জমে যাচ্ছে বা নিচে স্তর তৈরি করছে। তাদের ভাষ্যমতে, ভালো মানের ভোজ্যতেল সাধারণ তাপমাত্রায় এভাবে জমাট বাঁধে না। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, নিম্নমানের বা ভেজাল তেল দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে ডিলার রেদোয়ান বারী, প্রতিষ্ঠান মেহেরাব স্টোর-এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, চট্টগ্রামস্থ টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সরাসরি এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কোনো প্রকার পরিবর্তন, ভেজাল মিশ্রণ বা পণ্যের মানে হস্তক্ষেপ করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের কাছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য আসে। এর মধ্যে একটি ‘ফ্যামিলি’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহকৃত তেল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে অবহিত করেছেন বলে জানান।
স্থানীয় ভোক্তারা দ্রুত তদন্ত ও মান যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহকৃত পণ্যে যদি মানহীন বা ভেজাল দ্রব্য থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে এবং সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। তারা প্রশাসন, টিসিবি কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।