
মোঃ শাহাবুদ্দিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট একুশে নিউজ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতি এবং এনসিপির (জাতীয় নাগরিক কমিটি) বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আজ (২ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিভাজন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নিজের সরে দাঁড়ানোর কারণগুলো তুলে ধরেন।
রাফি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে এনসিপির রাজনীতি একসময় অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ছিল এবং জুলাই অভ্যুত্থানে এই অঞ্চলের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ‘স্টেকের খেলায়’ সেই সম্ভাবনা নষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি লিখেন, “স্টেকের খেলায় চট্টগ্রামের সম্ভাবনা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। যদিও সব দেখেশুনে চুপচাপ থেকে মোটামুটি সেখান থেকে আমি সরে এসেছি।”
চট্টগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য তিনি নাম উল্লেখ না করে ঢাকা থেকে যাওয়া কিছু নেতার হস্তক্ষেপকে দায়ী করেন। রাফি অভিযোগ করেন, রাসেল-রাফি বিভাজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছিল এবং এটি পরিকল্পিত মেকানিজমের অংশ ছিল। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এমন কোনো হেন প্রোপাগান্ডা নাই যেটা আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো হয় নাই। এমন কোনো নোংরামি নাই যেটা আমার সাথে করা হয় নাই।”
অভ্যন্তরীণ কোরাম ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ
চট্টগ্রামে এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, স্বল্প সংখ্যক কর্মীর মাঝেও অসংখ্য ‘কোরাম’ বা উপদল তৈরি হয়েছে। যারা ঢাকা থেকে স্টেক নিতে গিয়েছিলেন, তাদের কারণেই চট্টগ্রামের এই দশা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সবশেষে, চট্টগ্রামে এনসিপির রাজনীতি পুনর্গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি মনেপ্রাণে চাই চট্টগ্রামে এনসিপির রাজনীতিটা দাঁড়াক। সেন্ট্রালের নেতারা চট্টগ্রামে সুনজর দিক, তাহলে হয়তোবা একটু দাঁড়াইলেও দাঁড়াইতে পারে।”
রাফির এই স্ট্যাটাসটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা চট্টগ্রামের তৃণমূল রাজনীতিতে এনসিপির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে প্রকাশ্যে নিয়ে এল।