
এইচ এম শাহিন স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজন করা দোয়া ও মিলাদ মাহফিল রোববার (৩০ নভেম্বর) বাদ আছর রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত রাজনৈতিক সমাবেশে। ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এবং মজলুম জননেতা আলহাজ্ব শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের নির্দেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি এলাকাজুড়ে সৃষ্টি করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সুশৃঙ্খল আয়োজন ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি
সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীরের সভাপতিত্বে এবং করিম ও জুয়েলের সমন্বিত সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই ছিল শৃঙ্খলা, উদ্দীপনা ও নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মাঠজুড়ে মানুষের ঢল এবং রাজনৈতিক স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ দোয়া মাহফিলকে পরিণত করে মিলনমেলায়।
ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
তিনি বলেন—
“ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দেশ স্বস্তির স্বাদ পেতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাহসিকতা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,
“ধানের শীষ বিজয়ী হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা ও দুর্নীতিমুক্ত শান্তির বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
শেষে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
প্রধান বক্তার তারুণ্যের বার্তা
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা মুরাদনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান মীর দলকে সংগঠিত করা, তারুণ্যের শক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথিদের উপস্থিতিতে বর্ণিল আয়োজন
অনুষ্ঠানে প্রধান মেহমান ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন—
আবুল কাশেম সরকার, হুমায়ুন কবির হিমেল, রমিজ উদ্দিন মেম্বার, কবির হোসেন, সফিকুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার মোতাহের হোসেন, সাবেক সভাপতি ছানু মিয়া।
ছানু মিয়ার ফিরে আসা—অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগে থাকার পর ছানু মিয়া জনসম্মুখে ভুল স্বীকার করে পুনরায় বিএনপিতে ফেরার ঘোষণা দেন। কায়কোবাদের পক্ষে কাজ করার অনুমতি চাইলে পুরো মাঠ করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। অতীতে নির্যাতন ও মামলার ভয়ে দল ছাড়াদের মধ্য থেকেও বেশ কয়েকজন এদিন দলে ফিরে আসেন এবং ফুলেল অভ্যর্থনা পান।
সামাজিক মর্যাদায় সমৃদ্ধ আয়োজন
দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষক—
শ্রী কালীশংকর চক্রবর্তী ও শ্রী চিত্তরঞ্জন চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি সামাজিক ও মানবিক মর্যাদায় আরও সমৃদ্ধ হয়।
গণসমাবেশে পরিণত দোয়া মাহফিল
স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী—সুমন, মোবারক, কামরুল, আলাউদ্দীন, সোহেল রানা, আলাল, তৌফিক, সফিকসহ অসংখ্য কর্মীর সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক বিশাল গণসমাবেশে। নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো মাঠকে উৎসবমুখর করে তোলে।
দোয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি
শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাপনী বার্তা
দারোরা ইউনিয়নের এই আয়োজন শুধু একটি দোয়া মাহফিল নয়—
এটি ছিল রাজনৈতিক ঐক্য, সাংগঠনিক পুনর্জাগরণ, জনসম্পৃক্ততা এবং সামনে পথচলার নতুন অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। নেতাকর্মীরা আশা করছেন, এ আয়োজন বিএনপির মুরাদনগর রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনে নতুন গতি আনবে।