1. admin@ekusheynews.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি হিসাবে জিয়াউল হাসান সৌরভ 134/26 S R B পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি আবুল কালাম আজাদ জনবল সংকট, যন্ত্রপাতির ঘাটতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস 87/26 F J B ভোগড়া বাইপাসে সড়কের গর্ত ভরাট করল জিএমপি পুলিশ, স্বস্তিতে পথচারী ও চালক নাজমুল হোসেনকে ঘিরে নানা অভিযোগ: নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি নরসিংদীর রায়পুরা থানাধীন মেঘনা নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও RAB-এর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারসহ ৩জন গ্রেফতার সানজানা গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী চুন্টা বাজারে ৬ মাস ধরে বিকল টিউবওয়েল: ভোগান্তিতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা, জরুরি মেরামতের আকুল আবেদন নরসিংদীতে এসএসসিতে আবারও দেশসেরা নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস।

চুয়াডাঙ্গায় পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৭২ বার পঠিত

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
০৭/১২/২৫ ইং রবিবার

০৭ ই ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা চুয়াডাঙ্গা জেলা শত্রুমুক্ত হয়। এদিন মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদার বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা অভিমুখে পালিয়ে যায়। শত্রুমুক্ত হয় চুয়াডাঙ্গা।

এই দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নানা কর্মসুচী হাতে নিয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ০৯ টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র‌্যালী বের করা হয়।

র‌্যালী শেষে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও দিনটি উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

এদিকে ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর জেলার জীবননগর শহরে পাক হানাদার বাহিনীর পতন ঘটলেও চূড়ান্ত বিজয় আসে ০৪ ই ডিসেম্বর। এদিন প্রত্যূষে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর কমান্ডার মেজর দত্ত ও বর্ম্মা এবং ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনী যৌথভাবে জীবননগরের ধোপাখালী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করে জীবননগর, দত্তনগর, হাসাদহ সন্তোষপুর, রাজাপুর, ধোপাখালী ও মাধবখালীতে অবস্থানরত পাকবাহিনীর উপর অতর্কিতভাবে ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী প্রচণ্ড যুদ্ধ।

এ সময় রাজাপুর ও মাধবখালী সীমান্তে সম্মুখ সমরে শাহাদৎ বরণ করেন হাবিলদার আব্দুল গফুর, নায়েক আব্দুল মালেক, আব্দুর রশিদ, সিপাহী সিদ্দিক আলী, আব্দুল আজিজ ও আবু বকর। যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর ২৯ বেলুচ রেজিমেন্টের সৈন্যরা যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহের দিকে পালিয়ে যায়।

জীবননগর থানায় ফেলে যাওয়া পাকবাহিনীর ক্যাপ্টেন নারী ধর্ষণকারী ও অমানুষিক নির্যাতনকারী হিসেবে চিহ্নিত মুনছুর আলীর ব্যবহৃত জিপ গাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা আগুন ধরিয়ে দেয়। থানার মালখানা থেকে উদ্ধার করে পাশবিক নির্যাতনের পর সদ্য হত্যা করা ৭-৮ জন অজ্ঞাত পরিচয় যুবতীর লাশ।

অপরদিকে, জেলার দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চল দিয়ে পাক বাহিনীর উপর গেরিলা আক্রমণ শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী। এর ফলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হয়।

০৬ ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাক বাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহরমুখি মাথাভাঙ্গা নদীর ব্রিজের একাংশ শক্তিশালি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেয়। যাতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অনুসরণ করতে না পারে। ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গা করে কুষ্টিয়ার দিকে চলে যায়।

এরপর ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হয়। এ দিন স্বতঃস্ফুর্ত মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধারা চুয়াডাঙ্গার মাটিতে প্রথম উত্তোলন করে লাল-সবুজ খোচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা। শুরু হয় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড।

মোস্তফা আনোয়ারকে মহকুমা প্রশাসক করে এখানে বেসামরিক প্রশাসন চালু করা হয়। দীর্ঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ০৭ই ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গাকে মুক্ত করে এ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মহান মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার অবদান অবিস্মরণীয়। প্রথম রাজধানী হিসেবে নির্ধারিত হয় চুয়াডাঙ্গা। তারিখও নির্ধারিত হয় ১০ এপ্রিল।

খবরটি আগেভাগেই জানাজানি হয়ে যাওয়ায় কৌশলগত কারণে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথ তলায় প্রথম রাজধানী হয় এবং প্রবাসী সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গায় মোট মুক্তিযোদ্ধা ১ হাজার ৫৫৬ জন। এর মধ্যে যুদ্ধাহত ১৫৬ জন। এ রণাঙ্গনে শহীদ হয়েছেন ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। এ জেলায় দুজন বীর প্রতীকও রয়েছেন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্থানি বাহিনীর সঙ্গে চুয়াডাঙ্গার এসব সূর্য সন্তানদের সাহসী মোকাবেলা চুয়াডাঙ্গাকে করেছে মহিমান্বিত। এ কারণে জাতীয় গৌরবের প্রেক্ষাপটে চুয়াডাঙ্গা জেলার নন্দিত অবস্থান ইতিহাসে স্বীকৃত।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © একুশে নিউজ ২০২৫
Theme Customized By Shakil IT Park