
ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা নগরীতে এতিম শিশুদের কল্যাণে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে উন্নয়ন সংস্থা ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ। সংস্থাটির উদ্যোগে এতিম শিশুদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, ক্রীড়া সরঞ্জাম, শিক্ষা উপকরণ ও মৌসুমী ফল বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নগরীর সৈয়দ আলী হোসেন সড়কে রহুমা সমাজকল্যাণ সোসাইটির মিলনায়তনে “অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রাম”-এর আওতায় এই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মোট ২৬ জন এতিম শিশু ও তাদের অভিভাবকদের হাতে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, সয়াবিন তেল, ডাল, চিনি, মিল্ক পাউডার, নুডলস, ফুড প্যাক, হরলিক্স, বাদাম, বিস্কুট, চকলেট ও মৌসুমী ফল। এছাড়াও শিশুদের জন্য বই সেট (নবী-রাসূল সিরিজ), আর্ট বই, পেন্সিল, কলম, ইরেজার, পেন্সিল বক্স, খাতা, রঙ পেন্সিল, স্কুল ব্যাগ, আর্ট ফ্রেম ও ছাতা প্রদান করা হয়।
ক্রীড়া সামগ্রীর মধ্যে ছেলেদের জন্য একটি ক্রিকেট সেট (ব্যাট, বল ও স্টাম্প) এবং মেয়েদের জন্য একটি ব্যাডমিন্টন সেট (ব্যাট ও শাটলকক) দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে সারা বছরের পড়াশোনা ও স্কুল ফি বাবদ ৩,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. ইমরান (ডিএসবি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. জি এম শফিকুল ইসলাম ও ডাক্তার জিন্নাত আলী। বক্তব্য দেন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান ও মাসুম বিল্লাহ ইমরান। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংস্থাটির এরিয়া প্রতিনিধি এস. এ. মুকুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. ইমরান বলেন, ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, সমাজকল্যাণ, কৃষি ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৩ সাল থেকে সংস্থাটি “অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রাম”-এর আওতায় এতিম শিশুদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বছরে চার ধাপে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, বছরে একবার ক্রীড়া সামগ্রী, দুইবার পোশাক, একবার হাইজিন প্যাক, একবার শিক্ষা সফর আয়োজন এবং সারা বছরের জন্য শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ফি সহায়তা প্রদান করা হয়, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে তিনি প্রশংসনীয় উল্লেখ করে সমাজের অন্যান্য সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।