
পথিক কবি,নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা জুড়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে মাদকদ্রব্যের অবাধ ক্রয়-বিক্রয়। বিশেষ করে মোল্লাহাট, চিতলমারী এবং সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা, মদ, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের মতো মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। এতে করে এলাকার যুব সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ছোট ছোট চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাড়ির ভেতরেও গোপনে মাদক বিক্রি চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীরাও এসব অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। গাঁজা ও ভাঙ যেন এখন অনেক এলাকায় “মামুলি বিষয়” হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ইয়াবা ও ফেনসিডিলও যে কোনো সময় সংগ্রহ করা যাচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
সচেতন মহলের অভিযোগ, মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সমাজের মাতুব্বর এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়ছে না। ফলে যুব সমাজ ধীরে ধীরে নেশার অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, মাদক নির্মূলে প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ এর স্থানীয় কর্মকর্তারা দাবি করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাগেরহাটকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সাধারণ মানুষ মনে করেন, প্রশাসন আন্তরিক হলে খুব দ্রুতই মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।