
মোঃ শাহাদাত হোসাইন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাইকগাছায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গর্ভের সন্তান নষ্টসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া জিআর-১৮৫/২৫ মামলায় অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্ত শেষে মামলার দুই আসামি ইয়াসিন আরাফাত (২৩) ও নয়ন মোড়ল (১৯)-কে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাইকগাছা থানার এসআই মনিরুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্ত শেষে পাইকগাছার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পৌরসভার বাতিখালীর বাসিন্দা হাকিম শাহাদাৎ হোসেন সোলাদানার জামাইপাড়া কাঁকড়াবুনিয়া এলাকায় জমি ক্রয়ের আগে স্থানীয় আবজাল শেখের স্ত্রী রাজিয়া বেগম ওই জমির ওয়াপদা সড়কের পাশে ঘর তুলে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে শাহাদাৎ হোসেন জমি ক্রয় করার পর জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য রাজিয়া বেগমকে অনুরোধ করেন। তবে এতে কোনো সমাধান না হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে গত বছরের ২৫ অক্টোবর শাহাদাৎ হোসেনের জমির গাছপালা কেটে ফেলার খবর পেয়ে তার ছেলে ইয়াসিন ও নয়ন ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় বাদী রাজিয়ার ছেলে আলীর স্ত্রী শাফলা খাতুন (২৫) বাড়ির মধ্যে গোসলরত অবস্থায় ভিডিও ধারণ করায় ক্ষুব্ধ হন। পরে গোসল শেষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনিও মোবাইলে ভিডিও করতে থাকেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে মোবাইল ফোন কাড়াকাড়ি, ধাক্কাধাক্কি ও চড়-থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর শাফলা খাতুন নিজেকে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করে অভিযোগ করেন, তার তলপেটে লাথি মারায় রক্তক্ষরণ ও ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনদিন চিকিৎসার পর তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হলেও, তার স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী পরবর্তীতে তালা এলাকায় গ্রামের চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এজাহারে মারধরের কারণে তিন মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ আনা হলেও হাসপাতালের মেডিকেল সার্টিফিকেটে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার মণ্ডল শরীরে ব্যথা ও দুটি আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করেন। তবে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।
অন্যদিকে ২৬ অক্টোবর পাইকগাছা মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে “ইনকমপ্লিট অ্যাবরশন প্রোডাক্ট” উল্লেখ করা হয়। তবে তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার একদিন আগে ২৪ অক্টোবর সুন্দরবন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা প্রেগন্যান্সি টেস্টে ভিকটিমের গর্ভে সন্তান না থাকার মতামত দেন ল্যাব টেকনিশিয়ান মনজুরুল ইসলাম।
সবকিছু পর্যালোচনা শেষে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বিবাদীদের বিরুদ্ধে ৩২৩ ও ৫০৬ ধারার অভিযোগ ছাড়া দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩১৩ ও ৩৮০ ধারায় অপরাধ সংঘটনের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে মামলার দুই আসামিকে অব্যাহতির জন্য আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে।
এদিকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাকিম শাহাদাৎ হোসেন।