
গাজী আব্দুল আলীম,নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের সীমান্ত এলাকায় গরু,স্বর্ণ,অস্ত্র ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালান সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী,অসাধু বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি চক্র ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বড় ধরনের অবৈধ চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সূত্র জানায়,সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে চোরাচালানকারীদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।বিশেষ করে গরু পাচার,স্বর্ণ চোরাচালান,অবৈধ অস্ত্র ও ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র।সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে,বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী,খুন-গুম ও অপহরণ মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং বিতর্কিত আমলারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।তাদের মধ্যে কেউ কেউ দেশের অভ্যন্তরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পুনরায় দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি,অতীতে অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে সাদা করা হয়েছে। সেই অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধচক্র আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ড,অপহরণ ও গুমের ঘটনায় জড়িত কিছু গডফাদারের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে,অতীতে যেসব সিন্ডিকেট অবৈধ অস্ত্র আমদানি,স্বর্ণ চোরাচালান ও ভারতীয় পণ্যের অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ করত,তারা এখনো নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে মরিয়া।এসব চক্রের মাধ্যমে দেশে অপরাধ প্রবণতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সচেতন মহল মনে করছে,দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখনই সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি করা জরুরি।বিশেষ করে সীমান্তে নিয়োজিত সকল চৌকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের মতে,অবৈধ অস্ত্র,স্বর্ণ,গরু ও ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অপরাধী চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন,যাতে বাংলাদেশ আর কখনো অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত না হয়।