
গাজী আঃ আলীম,স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার সাভার মডেল থানায় মালিকানাধীন জমির সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, অবৈধভাবে মাটি ভরাট, জবরদখলের চেষ্টা, চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন জমির মালিক মেঃ মঞ্জুর আহমেদ।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি পিতা তাহের আহমেদ পাঠওয়ারীর সন্তান এবং বৈধভাবে ক্রয়কৃত একটি জমির মালিক ও দখলদার। দলিল নং- ৪৫৪৭, তারিখ ০৬ মার্চ ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ অনুযায়ী তিনি জমিটি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে ডিজিটাল খতিয়ান ও নামজারি সম্পন্ন করেন। এছাড়াও জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসলেও নুরুজ্জামান (২৮) ও সাইফুল এবং তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। তারা জমির দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিকট অবৈধভাবে অর্থ দাবি করেন এবং দাবি পূরণ না হলে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
আবেদনকারী আরও জানান, গত ১৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ গভীর রাতে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার মালিকানাধীন জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে সেখানে নির্মিত সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় তার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং বৈধ মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের সুস্পষ্ট অপচেষ্টা প্রতীয়মান হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে এবং জমির দেখাশোনাকারী লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি ভবিষ্যতে জমিতে গেলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তিনি, তার পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আবেদনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় পুনরায় জমি দখল, ভাঙচুর, হামলা কিংবা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এ অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ চাঁদাবাজি ও জবরদখলের চেষ্টা বন্ধ এবং তার পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সম্পত্তির সংক্ষিপ্ত বিবরণ
আবেদনপত্রে উল্লেখিত তথ্যমতে, জমিটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া মৌজায় অবস্থিত। জমির পরিমাণ ৬.৫০ শতাংশ। জমির উত্তরে হালিমা বেগম, দক্ষিণে মহিউদ্দিনের বিক্রিত জমি, পূর্বে ফকির উদ্দিনের বিক্রিত জমি এবং পশ্চিমে একটি সরকারি সড়ক রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।