
খোকসা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা:
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে মাদক আধিপত্য ও দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার মূল আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে খোকসা থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ জুলাই) খোকসা থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-০৫/৫৩-এর এজাহারভুক্ত ২৪ জন আসামির মধ্যে প্রধান আসামি হিজলাবট গ্রামের মৃত জলিল শেখের ছেলে মোঃ মিন্টু শেখ লাড্ডু (৪৫) এবং মামলার তৃতীয় আসামি দেবীনগর গ্রামের মোঃ আনসার শেখের ছেলে মোঃ নূর আমিন শেখ (৩২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে শনিবার রাত আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটে দেবীনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জোড়া হত্যা মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৪, ৩২৬, ৩০২, ৩০৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে মামলায় নতুন তথ্যও সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই আসামিকে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
খোকসা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে মাদক আধিপত্য ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে খোকসা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই মামলার প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।